Tuesday, July 25, 2017

খুলনা বিভাগে ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী

খুলনা বিভাগে ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী

 

 ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করলেও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার কথা বেশ আগে থেকেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। এতে পাল্টে যেতে পারে রাজনীতির সব হিসাব-নিকাশ। শেষ পযন্ত ভোটযুদ্ধে মাঠ দখলে থাকবে ২০ দলীয় জোট ও ক্ষমতাসীন মহাজোট। যদিও ইতোমধ্যে বিএনপি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। এমনকি জনগণকে সাথে নিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে দেশে কোনও নির্বাচন হতেও দেবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপির আগামী দিনে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে এমন সম্ভাব্যদের খসড়া তালিকা তৈরি করছে। উদ্দেশ্য ক্ষমতাসীন সরকার আদালতকে ব্যবহার করে যদি কোনও কারণে দলের সিনিয়র ও জনপ্রিয় নেতাদের মামলার অজুহাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য ঘোষণা করে। সেক্ষেত্রে যাতে করে বিকল্প প্রার্থী পেতে খুব একটা বেগ পেতে না হয়। তবে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে। আর সেই ক্যাটাগরিতে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে তৃণমূলে জনপ্রিয় এবং বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও দলের জন্য নিবেদিতদের।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন যারা:
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা): খুলনা বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু ও বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওহাব।

ঝিনাইদহ-২ (হরিনাকুন্ডু ও সদরের কিছু অংশ): বিএনপির একক প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মশিউর রহমান।

ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর): ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ লতিফুর রহমান চৌধুরী, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, কোটচাঁদপুর থানা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান মোমিন।

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের বাকি অংশ): সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান বেল্টু ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।

চুয়াডাঙ্গা-১ (আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা সদরের কিছু অংশ): বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, সদস্য মো. শরিফুজ্জামান শরিফ ও লে. ক. (অব.) কামরুজ্জামান।

চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা, জীবননগর ও সদরের বাকি অংশ): জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহামুদুল হাসান খাঁন বাবু ও সদস্য মো. মোখলেছুর রহমার টিপু তরফদার।

মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর): সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি মাসুদ অরুণ।

মেহেরপুর-২ (গাংনী): সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন ও সহ-সভাপতি জাবেদ মাসুদ মিলটন।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর): সাবেক এমপি উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু ও জেলা বিএনপির সদস্য আলতাফ হোসেন।

কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা ও মিরপুর): সাবেক এমপি অধ্যাপক শাহিদুল ইসলাম ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাকিব রোফ চৌধুরী।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর): জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন ও স্থানীয় নেতা ড.তালাত কোরেশী।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী ও খোকশা): সাবেক এমপি জেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদি হাসান রুমি এবং সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম প্রামাণিক।

খুলনা-১ (বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা): জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ ও স্থানীয় বিএনপি নেতা লাতিফুর রহমান লাবু।

খুলনা-২ (সদর থানা ও সোনাডাঙ্গা): মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাবেক এমপি আলী আজগর লবী।

খুলনা-৩ (খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা): বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী সেকেন্দার ডালিম, খুলনা মহানগর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এসএম আরিফুর রহমান মিঠু, সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম বকুল ।

খুলনা-৪ (রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া): বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, আইটি বিষয়ক সম্পাদক শাহ কামাল তাজ ও জেলা সভাপতি শফিউল আলম মানা।

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া ও ফুলতলা): বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মামুন রহমান, সাবেক এমপি গাজী আব্দুল হক ও উপজেলা নেতা খান আলী মুনসুর।

খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা): কয়রা থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মন্টু।

বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট): সাবেক এমপি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শেখ মুজিবর রহমান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাড. সেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু।

বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া): জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম।

বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মংলা): জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ড. ফরিদুল ইসলাম।

বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা): জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী খায়রুজ্জামান শিপন ও সহ-সভাপতি এমএ খালেক।

যশোর-১ (শার্শা): জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামসুর রহমান, শার্শা উপজেলা সভাপতি খায়রুজ্জামান মধু ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান জহির।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা): ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা নাজমুল মুন্নী, জেলার সহ-সভাপতি অ্যাড. মো. ইসহক, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান, চৌগাছার সভাপতি জহুরুল ইসলাম ও ঝিকরগাছার সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা এলাহী টিপু।

যশোর-৩ (সদর): বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম অসুস্থতাজনিত কারণে প্রার্থী না হলে পুত্র বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া): বাঘারপাড়া সভাপতি বিএনপি টিএস আইয়ুব, অভয়নগর বিএনপি সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান, বাঘারপাড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের সিদ্দিকী।

যশোর-৫ (মনিরামপুর): মণিনরামপুর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শহীদ ইকবাল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু মুসা, জিয়া পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব শরিফুজ্জামান খান।

যশোর-৬ (কেশবপুর): বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক পৌর মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস।

মাগুরা-১ (শ্রীপুর ও সদরের কিছু অংশ): জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কবির মুরাদ, জেলা বিএনপির সদস্য মনোয়ার হোসেন খান ও স্থানীয় নেতা ইকবাল আক্তার খান।

মাগুরা-২ (মহম্মদপুর ও সদরের বাকি অংশ): বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সলিমুল হক।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া): সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও তালা উপজেলা ছাত্র দলের প্রাক্তন সভাপতি মো. বদিরুজ্জামান বদরু।

সাতক্ষীরা-২(সাতক্ষীরা সদর): জেলা বিএনপির সভাপতি রহমাতুল্লাহ পলাশ, সহ-সভাপতি আব্দুল আলীম ও পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি।

সাতক্ষীরা-৩ (দেবহাটা, আশাশুনি ও কালীগঞ্জের চারটি ইউনিয়ন): কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহীদুল আলম, সাবেক এমপি আলহাজ কাজী আলাউদ্দিন ও বিএনপি নেতা অ্যাড. বরুন বিশ্বাস।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালীগঞ্জের আটটি ইউনিয়ন): সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী।

নড়াইল-১ (কালিয়া ও সদরের কিছু অংশ): জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর ও সাবেক ছাত্র নেতা গৌতম মিত্র।

নড়াইল-২ (লোহাগড়া ও সদরের বাকি অংশ): সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ. কাদের শিকদার, সাবেক পৌর মেয়র জুলফিকার আলী ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম।

No comments:

Post a Comment