Monday, July 24, 2017

এমন পুলিশের দরকার নেই: হাইকোর্ট

এমন পুলিশের দরকার নেই: হাইকোর্ট

 

 

ঢাকা: জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে প্রতিবেদন দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন তরফদারকে উদ্দেশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘যেই পুলিশের কাছে এলাকার মানুষের কোন খোঁজ খবর নাই, এইসব পুলিশের দরকার কি?’

রবিবার (২৩ জুলাই)  আদালতে ব্যাখ্যা দিতে গেলে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওসিকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেন।

আদালতের শুরুতে ওসির আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বিপ্লব ওই প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিতে গেলে আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আজ দুপুরে শুনানির শুরুতে আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘পুলিশ সুপার মোট ১৯৯ জনের প্রতিবেদনের জন্য আখাউড়ার ওসির কাছে পাঠান। ওসি ১০ জন এসআই ও একটি ফাঁড়িকে দায়িত্ব দেন। সবাই রিপোর্ট দিলে এসআই আবুল কালাম আজাদ টেলিফোনে কম্পিউটার অপারেটরকে প্রতিবেদন দেন। যেখানে একজন মৃত ও আরেকজনের বিষয়ে দুটি মামলা আছে বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু অপারেটর যার বিরুদ্ধে মামলা আছে তার স্থলে মৃত ব্যক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

এসময় আদালত আইনজীবীকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, মুখস্ত কথা বলবেন না। কাগজ দেখেন। ওই প্রতিবেদনে ওসির স্বাক্ষর রয়েছে সেটা দেখেন। আমরা মুখের কথায় বিচার করব না। আমরা তথ্য উপাত্ত দেখে বিচার করবো।

এসময় আদালত বলেন, ‘আপনি এ মামলায় লড়বেন? জবাবে তিনি বলেন, না, আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি।’

পরে আদালত আইনজীবী এম খালেদের কাছে বিষয়টি জানতে চান। তখন খালেদ বলেন, ‘পরবর্তীতে পুলিশ একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। যেটি হজযাত্রীর অনুকূলে নয়। ওখানে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা আছে। কিন্তু একটি মামলায় তিনি খালাস। আরেকটিতে জামিনে আছেন।’

এসময় আদালত বলেন, ‘উনি হজে যেতে পারবেন কি না? জবাবে এম খালেদ বলেন, প্রতিবেদন অনুকূলে দেয়নি। তাই পারবেন না।’

এ পর্যায়ে আদালতের জিজ্ঞাসায় শাহরিয়া কবির বলেন, ‘ওই ব্যক্তির বিষয়টি দৃষ্টিতে আসার পর গত ৪ জুলাই আরেকটি প্রতিবেদন দেয়া হয়। যেখানে বলা হয়েছে তার নামে দুটি মামলা আছে। পরে মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইটে সেটা (মৃত না থাকার বিষয়ে) সংশোধন করে।’

এসময় আদালত ওসির আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই কেন। পুলিশ তো জানেই না উনি মামলায় খালাস বা জামিন পেয়েছেন। আর আদালত জানতে চেয়েছে তিনি জীবিত না মৃত সেটা তো আপনারা নির্দিষ্ট করে বলেননি। আপনারা শুধু ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন। কনস্টেবল দেখাচ্ছেন। পুলিশ সুপার দেখাচ্ছেন। ওসির কাছে কোনো আপডেট তথ্য নেই। যে তার এলাকার লোকের খবর জানে না, তার কোনো দরকার আছে? এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’

এসময় আদালত ওসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। এখন একজন কনস্টেবলের গলায় ঝুলিয়ে দিতে চাচ্ছেন। কনস্টেবল দেখাচ্ছেন। পুলিশ সুপার দেখাচ্ছেন।’

যে ওসির তার নিজের এলাকার মানুষের খবর রাখে না তার পুলিশে থাকা উচিত না এমন মন্তব্য করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদেশ পাস করতে গেলে আইনজীবী শাহরিয়ার কবির আদালতের কাছে বার বার নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদেশ না দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

পরে আদালত আজ এ বিষয়ে আদেশ না দিয়ে আগামীকাল এ বিষয়ে পরবর্তী দিন ধার্য করে বাকি তথ্য নিয়ে আসতে বলেন।

আদালতে আজ ওসির পক্ষে ছিলেন শাহরিয়ার কবির বিপ্লব। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম খালেদ ও মো. কায়সার জাহিদ ভূঁইয়া।

আখাউড়ার বাসিন্দা আজাদ হোসেন ভূঞার হজে যাওয়ার কথা ছিল ১৮ বা ২৯ জুলাই। কিন্তু ২০ জুন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পুলিশ প্রতিবেদনে তাকে মৃত বলে দেখতে পাওয়া যায়। পরে তিনি এ বিষয়ে রিট দায়ের করেন।

এরপর ১৭ জুলাই সোমবার আদালত ওসিকে তলব করে রুল জারি করেন। আদেশে ২৩ জুলাই হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। রুলে পুলিশ প্রতিবেদনে জীবিত ব্যক্তিতে মৃত দেখানো কেন বেআইনি হবে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
 

No comments:

Post a Comment