Sunday, August 27, 2017

কে এই বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ?

কে এই বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ?


     ২০০১ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায়ের আগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে হাইকোর্ট বিভাগে অস্থায়ী বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ দিয়েছিল। তাঁর ২ বছর অস্থায়ী মেয়াদ শেষে স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে নিয়োগ চুড়ান্ত করেছিল চার দলীয় জোট সরকার। আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় এসে তাঁকে হাইকোর্ট আপিল বিভাগে নিয়োগ দিয়েছে। এ সরকারই তাঁকে প্রধান বিচারপতি বানিয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম যিনি আগে আইন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। কামরুল ইসলাম স্পষ্ট করেই বলেছেন তাঁর নিয়োগ দেয়া হয়েছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। তাঁকে আপিল বিভাগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। সুতরাং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি বরাবরই আওয়ামী স্বার্থ রক্ষা করতে দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিম স্কাইপ কথোপকথনে আহমদ জিয়াউদ্দিনকে বলেছিলেন-‘সিনহা বাবু কইছে ৩ডারে দিয়া লন। তারপর আপনারে আমরা এখানে নিয়া আসি’। তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেছিলেন সেদিন ৩টা মানে গোলাম আজম, সাঈদী এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

             আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছিল ট্রাইব্যুনালে। তার পরের ঘটনা সবারই কম বেশি জানা। নতুন আইন করে আপিল করেছিল সরকার। এই আপিলের শুনানীতে একজন মাত্র বিতর্কিত সাক্ষী মোমেনা বেগমের একটি বক্তব্য আমলে নেয় আপিল বিভাগ। এতেই আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে হত্যা করার আদেশ দেওয়া হল। এই মামলার রিভিউ শুনানীতে আবদুল কাদের মোল্লার আইনজীবী আদালতের সামনে প্রশ্ন রেখেছিলেন এই বলে মোমেনা একই ঘটনায় ৩ জায়গায় ৩ রকম বলেছেন। এখন কোন মাফকাটিতে একটা বক্তব্যকে সত্য মনে করা হল। তখন সুরেন্দ্র কমারই উত্তর দিয়ে বলেছিলেন, আমাদের কাছে এর মধ্যে একটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে। এজন্য ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। অথচ সন্দেহাতীত প্রমান ছাড়া কাউকে ফাঁসি দেওয়া বিচারের বিধান নয়।
আরেকটি ঘটনা হচ্ছে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী দাবী করেছিলেন তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে ছিলেন। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন তখন তিনি। এ দাবীর স্বপক্ষে তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সনদ জমা দেয়া হয়েছিল। পাকিস্তানের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ৫জন আদালতে এসে সাক্ষী দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। সাক্ষী দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শামিম হাসনাইন। ধরে নিলাম সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ভুয়া একটি সনদ জনা দিয়েছেন। কিন্তু বিচারের নীতি হচ্ছে সেটাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা বা যাছাই বাছাই করে প্রমান করা। কিন্তু কোন রকমের যাছাই বাছাই ছাড়াই সনদ অগ্রাহ্য করা হয়। নাকচ করা হয় সাক্ষীদের আবেদন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসিতে হত্যার হুকুম দেওয়া হয় সনদ ও সাক্ষী যাছাই করা ছাড়াই। সনদ ও সাক্ষীদের যাছাই করে তাঁকে হত্যার হুকুম দেওয়া হল অন্তত বলা যেত ন্যায় বিচারের মাধ্যমে তাঁকে দুনিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে। এই হল সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।


লেখক: দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত। ( আরবিএন)

Get all business address on Address Bangladesh

 

No comments:

Post a Comment