Monday, August 28, 2017

প্রধান বিচারপতিকে অপসারনের চেষ্টা ব্যর্থ

প্রধান বিচারপতিকে অপসারনের চেষ্টা ব্যর্থ

 
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে অপসারনের চেষ্টা করে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এখন উল্টো সরকার পতন অত্যাসন্ন হয়ে পড়েছে। পর্দার অন্তরালে চলছে নানা আয়োজন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। আগামী একাদশ নির্বাচন, নির্বাচনের রোডম্যাপ, নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থাসহ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রায় সব ইস্যুই এখন চাপা পড়ে গেছে ষোড়শ সংশোধনীর বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা-সমালোচনায়। রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বধীন ২০ দলীয় জোটসহ ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানেরা। আর এ রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল।

যদিও ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিচারপতি তথা সুপ্রীম কোর্টের বিরোধ দৃশ্যমান, কিন্তু বাস্তবে এর কারন ভিন্ন। আর সেই ভিন্ন কারন রোধ করতেই প্রধান বিচারপতি সিনহাকে সরকার অপসারন করতে চায়। কারন তিনি বহাল থাকলে এ সরকার আর ক্ষমতায় থাকতে পারছে না, এমন খবর চাউর হয়ে যাওয়ার পরেই সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে আপোষের শেষ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় সরকার। এমনকি রাষ্ট্রপতি নিজেও প্রধান বিচারপতিকে বঙ্গভবনে চায়ের দাওয়াতে ডেকে নিতে পারেননি। খবর রটেছিল, সেখানে গেলে বল প্রয়োগে প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করানো হতো। এছাড়াও প্রধান বিচারপতি সিনহা হিন্দু এবং ভারতপন্থী হওয়ায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে দিয়ে দু’দফা অনুরোধ করে তােকে বাগে নিতে ব্যর্থ হয় সরকার। বিচারপতি সিনহা তার সিদ্ধান্তে অনড়, এবং তার সঙ্গে আছে গোটা সুপ্রীম কোর্ট।

গতকাল বিচারপতি সিনহাকে অপসারন করতে প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সন্ধ্যায় ছুটে যান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে বঙ্গভবনে। আইনমন্ত্রী, আ’লীগ সাধারন সম্পাদক, এবং এটর্নী জেনারেলকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কয়েক ঘন্টাব্যাপি সভা করেও কোনো কুল কিনারা করতে পারেনি। এর কারন আইনগত বাধা। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে বিচারপতি সিনহা নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে তাকে অপসারনের একমাত্র পথ হচ্ছে সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবহার করা। সেখানে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাঠালে আপীল বিভাগের তিন জন সিনিয়র বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তা পরীক্ষা করে মতামত দিলেই কেবল রাষ্ট্রপতি ব্যবস্খা নিতে পারবেন, তার আগে নয়। বর্তমানে ঐ তিন বিচারপতি হলেন ওয়াহহাব মিয়া, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, এবং ইমান আলী। এখানে মুশকিল হলো, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতি সিনহার সাথে এরাও সাক্ষর করেছিলেন। যার ফলে এই রায় নিয়ে তাদের কাছেই কোনো অভিযোগ পাঠানো অর্থহীন। এসবের ফলাফল হলো বিচারপতি সিনহার অবস্থান অত্যন্ত শক্ত। তবে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের কারনে সরকার যেভাবে বিচার বিভাগের উপরে আক্রমন করেছে, তা ক্ষমতা খাটিয়ে রাষ্ট্রের একটি অঙ্গহানি করে দেয়ার সামিল। এমন ঘটনা বাংলাদেশে নজিরবিহীন। বিশেষজ্ঞরা এহেন অবস্থাকে সরকারের চরম বাড়াবাড়ি ও ক্ষমাহীন অপরাধ হিসাবে দেখছেন। ২০০৭ সালে পাকিস্তানে এ ধরনের কান্ড ঘটাতে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে যেহেতু একাধিক বার অপসারনের চেষ্টা করেছে বর্তমান ভোটবিহীন প্রশ্নবিদ্ধ সরকার, তার জবাবে প্রধান বিচারপতিও এই সরকারকে আর কোনো সুযোগ দেবেন না। এমনকি বিচার অঙ্গনে খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, আরেকটি রায় তৈরী করা আছে, কেবল ঘোষণা বাকী। আর এতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনাভোটের ১৫৪ জন সদস্যকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি সিনহার হাত দিয়েই এই রায় আসবে। তবে কোনো কারনে তার অসুবিধা হলে পরের জন অর্থাৎ বিচারপতি ওয়াহহাব মিয়া এই রায় ঘোষণা করবেন। এসব খবর সরকারও কম বেশী অবহিত, এবং তারা চেষ্টা করছে তা ঠেকিয়ে দেয়ার। তবে সুপ্রীম কোর্টের উপর শক্তি প্রয়োগ করা হলে সেনা শাসন চলে আসবে, এবং বর্তমান সরকারের মর্মান্তিক পতন হবে, সেটাও সরকার অবহিত।

ষোড়শ সংশোধনীর রায় একটি যুগান্তকারী রায়। ৭৯৯ পৃষ্ঠার এই রায়ে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলমান সংকটের নির্ভরযোগ্য বর্ণনা এবং তা থেকে উত্তরনের পথ বাৎলে দেয়া হয়েছে। মূলত দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই অনিয়ম, দুঃশাসন, ও জনগনের দুঃখ দুর্দশা, দেশী বিদেশী বিশেষজ্ঞ মতামত সব কিছুই পর্যালোচনা করে এই বিশাল রায় লেখা হয়েছে, যার পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট বলা হয়েছে। জানা গেছে, এই রায়ের পাশাপাশি দেশীয় সংকট সমাধানের একটি বড় পরিকল্পনাও কাজ করছে, যার সাথে জড়িত আছে কতিপয় প্রভাবশালী রাষ্ট্র, জাতিসংঘ, এবং বিশেষজ্ঞরা। এ পরিকল্পনাটি রাষ্ট্ররক্ষা বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের সাথে করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সুষ্ঠু নির্বাচন, ও আইনের শাসন পূনঃপ্রতিষ্ঠার একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র মতে, সরকারের বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করেই সঠিক পথেই আগাচ্ছে। 

No comments:

Post a Comment