Monday, August 28, 2017

প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার

প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার

 

যে কঠোর বিকল্পের কথাও ভাবছে আওয়ামী লীগ:
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ থেকে ‘আপত্তিকর’ অংশ স্বেচ্ছায় বাতিল কিংবা রিভিউ আবেদনে এসব অংশ বাতিল হবে এমন সম্মতি চায় শাসক দল আওয়ামীলীগ। এ জন্য আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে প্রধান বিচারপতি সিনহা সমঝোতায় রাজী না হলে কঠোর বিকল্প চিন্তাও রয়েছে ক্ষমতাসীনদের। এ জন্য আরো সময় নেবে শাসক দল। আওয়ামী লীগ নেতারা রায়ের পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন অংশ নিয়ে ‘জনমত গঠনে’ প্রতিনিয়ত বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। রিভিও করার কথা বলা হলেও মন্ত্রী ও নেতারা প্রতিদিনই প্রধান বিচারপতিকে আক্রমন করতে ছাড়ছেন না। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগও চেয়েছে সরকারের মন্ত্রীরা। বিচারপতি সিনহাকে আরো চাপে রাখার কৌশল হিসেবে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাকে অপসারনের আওয়াজ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতির বিচারিক ‘অসদাচরণ’ ও ‘শপথ ভঙ্গের’ অভিযোগে নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ পাঠানোর বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। তবে এ জন্য আওয়ামী লীগ আরো সময় নিবে। রাজপথের পাশাপাশি আইনিভাবেও প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ কিছু অভিযোগ জোগাড় করছে সরকার। তবে এসব সাংবিধানিক বিষয়ে সরকার হুটহাট কিছু করতে চাচ্ছে না। বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে যাতে কোনো জটিল অবস্থা বজায় না থাকে সে জন্য সরকার ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পথে এগোনোর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আওয়ামী লীগের দাবি পূরণ করার সম্ভাব্য মসৃণ পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে আপীল বিভাগের ৭ বিচারপতির সর্বসম্মত রায় কোনো রিভিউতে পরিবর্তন হওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই, সেটা জানে শাসক দল। তেমন ঘটনাটি ঘটলে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতিকে তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য অনুরোধ করবে। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলে তদন্তের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেবে সরকার। তখন প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলকে নির্দেশ দিতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতির ‘অসদাচরণ’ প্রমাণের জন্য বেশকিছু অভিযোগ যোগাড় করেছে সরকার। এর মধ্যে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত একজন আসামীর পরিবারের সঙ্গে বৈঠক, আবেদনকারীর অনুরোধে আপিল বিভাগের বেঞ্চ পরিবর্তনসহ প্রধান বিচারপতির বিভিন্ন বক্তব্যের অডিও এবং ভিডিও জোগাড় করা হচ্ছে। তবে সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পার করে বিচারপতি সিনহাকে অপসারন করা প্রায় অসম্ভব, সেটা সরকার জানে।
যদিও শাসকদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা আশা করছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির সমঝোতা হতে পারে, কিন্তু আলামত বলছে ভিন্ন কথা। সূত্র নিশ্চিত করেছে, উদ্ভূত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার জন্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ প্রধান বিচারপতিকে একাধিকবার বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু বিচারপতি সিনহা নিশ্চিত হয়েছেন যে, সেখানে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কেবল কথাই বলবেন না, পদত্যাগের অনুরোধও জানাতে পারেন রাষ্ট্রপতি। এমনকি অস্ত্রের মুখে বিচারপতি সিনহাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে। এর ফলে গত এক সপ্তাহের চেষ্টায়ও প্রধান বিচারপতিকে বঙ্গভবনে নেয়া যায়নি। উপরন্তু রোববার প্রধান বিচারপতি আদালতে সরকারের এটর্নি জেনারেলকে পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্ট কতৃক সরকার পতনের বিষয়টি স্মরন করিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকার এবং প্রধান বিচারপতির মধ্যে টানাপোড়েনের পরিণতি সম্পর্কে সরকারের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়েছে। তবে সমঝোতার পথ প্রায় রুদ্ধ হওয়ায় কঠোর পথ অবলম্বনের নিয়ে সরকার দ্বিধাগ্রস্থ। এর আগে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সরকারের নীতিনির্ধারকরা প্রধান বিচারপতিকে কিভাবে বাগে আনা যায় বা শক্ত হাতে দমন করা যায় তার বিশ্লেষন করতে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছেন।
বিচারপতি সিনহার প্রস্তুতি
জানা গেছে, অনড় অবস্থানে আছেন প্রধান বিচারপতি সিনহা। সরকারের যত চাপই আসুক না কেনো তিনি নতি স্বীকার করবেন না। এর শেষ দেখে ছাড়বেন। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন কোনো আপোষ করবেন না তিনি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথে যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তা কিছুতেই নষ্ট হতে তিনি দেবেন না। এমনকি দলমত নির্বিশেষে উচ্চ সুপ্রীম কোর্টের উভয় বিভাগ এবং অধিকাংশ আইনজীবিরাও এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে প্রধান বিচারপতি সিনহা তার পথে অবিচল থাকবেন এটাই ধরে নিচ্ছে সবাই।

No comments:

Post a Comment